শিরোনাম :
সেনবাগে কাবিলপুর একতা সমাজ সংঘের উদ্দ্যোগে ইফতার পার্টি ও ঈদ বস্র উপহার বিতরণ সেনবাগে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের পক্ষ হতে ৪০০ পরিবারকে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ সেনবাগে সেলিম উদ্দিন কাজল এর উদ্দ্যোগে দেশবাসীর জন্য দোয়াও মেজবানী অনুষ্ঠিত সেনবাগে কাবিলমিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্দ্যোগে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ সেনবাগে অসহায় গরীবের মাঝে প্যানেল চেয়ারম্যান স্বপনের ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ ফরিদপুর জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত মীনার স্বপ্নপূরণের সহযাত্রী ফরিদপুর জেলা প্রশাসন বৃহত্তর গোয়ালচামট বাসীর পক্ষ থেকে শান্তিনিবাসে ইফতার বিতরণ সেনবাগে পৌরমেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বাবুর করোনাকালীন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সচেতনতা মুলক স্টিকার ও মাস্ক বিতরণ করলো জনপ্রিয় সেচ্ছাসেবী সংঘঠন ত্রিশাল হেল্পলাইন
নোটিশ :
Wellcome to our website...

দশ বছরের মাইল ফলক ছুয়েছে পার্থের পাঠশালা বাংলা স্কুল

প্রথমসংবাদ ডেক্স : / ৬৯ বার
আপডেটের সময় : শনিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২১

জেলা প্রতিনিধিঃ পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী শহর পার্থ। মাঝ দিয়ে বলে গেছে সোয়ান নদীর স্বচ্ছ জল ধারা। নদীর দুই ধার ঘিরে গড়ে উঠেছে এই মেট্রোপলিটন সিটি। শহরটি পৃথিবীর মোস্ট আইসোলেটেড সিটি হিসাবে পরিচিতি। এর নিকটতম প্রদেশের রাজধানী শহর এডেলেইড যার সড়ক পথে দূরত্ব দুই হাজার আটশত কিলোমিটার।

মাঝখানে বিশাল নলাবর মরুভূমি। সড়ক পথে রাজধানী শহর ক্যানবেরার দুরত্ব চার হাজার কিলোমিটারের উপরে। উন্নত জীবন এবং উন্নত শিক্ষা লাভের আশায় সেই ১৯৬৯ সাল থেকে বাংলাদেশের বাঙালিরা পারি জমানো শুরু করেছে এই পার্থের মাটিতে।

মানুষ যখন প্রবাসে আসে তখন সাথে করে নিয়ে আসে তার ভাষা, তার সংস্কৃতি, তার ঐতিহ্য । প্রবাস জীবনে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সেই ভাষা সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আয়োজন করে থাকে নানা ধরনের কর্মসূচি। অস্ট্রেলিয়ার পার্থের পাঠশালা বাংলা স্কুল সেরকম একটি কর্মসূচির অংশ। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে প্রবাসী বাংলাদেশি বাঙালিদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া অ্যাসোসিয়েশন অফ ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (বাওয়া) এখানে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলা শেখানোর তাগিদ থেকে ২০১০ সালে উদ্যোগ নেয় বাংলায় স্কুল প্রতিষ্ঠার এবং ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখে ফাদারস্ ডেতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে পাঠাশালা বাংলা স্কুল। বাওয়ার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও এটি একটি স্ব- শাসিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব ব্যাবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয় স্কূলটি। ক্যানিংভ্যাল কমিউনিটি সেন্টারে প্রতি রবিবার বিকাল চারটা হতে শুরু হয় এর শিক্ষা কার্যক্রম। এ বছরই স্কুলটি অফিস অফ মাল্টিকালচারাল ইন্টারেস্ট এর স্থায়ী রেজিস্টেশন পেয়েছে। স্কুলে ছাত্রছাত্রী দের তিনটি স্তরে বাংলা শিক্ষা দেয়া হয় – বিগিনার, ইন্টারমিডিয়েট এবং এডভান্স। বাংলা ভাষা শিক্ষায় আগ্রহী প্রাইমারি স্তরের যে কোন ছাত্রের এখানে ভর্তির সুযোগ আছে। পড়া এবং লেখা শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে কবিতা, গান নাটক সহ নানামুখী সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার সুযোগ। প্রতি বছর স্কুলে ছাত্র ছাত্রীরা একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বৃন্দ আবৃত্তি অথবা শিশুতোষ নাটক পরিবেশন করে থাকে। একদল বাংলা ভাষা প্রেমী প্রবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে স্কুলটি পার করেছে দশটি বছর। গত ৬ ডিসেম্বর ২০২০ আয়োজন করা হয় স্কুলের দশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের। ক্যানিংভ্যাল কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বর্তমান ছাত্র ছাত্রী, তাদের অভিভাবক, বর্তমান শিক্ষক মণ্ডলী, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং প্রাক্তন ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যবৃন্দ। দুই পর্বে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের প্রথম পর্ব ছিল আলোচনা সভা। বর্তমান স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অধ্যাপক আবু সিদ্দিকের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্যানিং সিটি কাউন্সিলের মেয়র প্যাট্রিক হল এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অফিস অফ মাল্টিকালচারাল ইন্টারেস্ট এর প্রতিনিধি পিটার মিলার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মিন্টু হক, বাওয়ার সাধারণ সম্পাদক তাসনিমুল গালিব অমিত। সভা সঞ্চালনা করেন স্কুলের প্রিন্সিপাল শর্মিষ্ঠা সাহা। দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শর্মিষ্ঠা সাহা ও শিক্ষক ফারজানা জাহানের সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বাংলা স্কুলের বর্তমান এবং প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী দিব্য, আইনান, সুদীপ্ত, রাফান, আলিজা, জুহায়ের, সোফিয়া, রিশান, নিজা, জিয়ানা, জয়তী, বিস্ময়, মানহা, আপ্তি, প্রসূন, অনন্যা, তানিশা, সিফান ও ফাইজা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক লাবনী ওমর ও অনু শর্মা । এছাড়াও ছিলেন স্কুলের দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষক ডঃ মোঃ আলী, ডঃ প্রবীর সরকার, ওয়াহিদ খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বর্তমান রেজিস্টার রূপম বড়ুয়া, সদ্য বিদায়ী রেজিস্টার মফিজুল ইসলাম, কমিউনিটি লিয়াজন অফিসার বিশ্বজিৎ বসু ও স্কুলের শিক্ষক পার্সিয়া ডেফোডিল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয় । এই বিশেষ কেকটি উপহার দিয়েছেন বাংলা স্কুলের শুভাকাঙ্ক্ষী সিমি খান। এরপর অতিথিদের সিঙ্গারা এবং মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আনন্দঘন পরিবেশে অতীত স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে একটি সুন্দর বিকেলের। এই বিকেলটি বাংলা স্কুল সংশ্লিষ্টদের মনে অনেকদিন বেঁচে থাকবে সুখস্মৃতি হয়ে।


এ জাতীয় আরো সংবাদ